Tuesday, July 31, 2012


হাইড্রোপনিক পদ্ধতি মাটিবিহীন চাষাবাদ

195881_1
গাছ আছে, ফল আছে, ফুল আছে আপনার প্রিয় আঙিনায়; কিন্তু গাছের নীচে মাটি নেই। ভাবছেন এটা আবার হয় নাকি! হয়। আপনার আঙিনায় মাটি ছাড়াই জন্মাবে প্রিয় ফসল, ফুল, সবজি। মাটির পরিবর্তে পানিতেই জন্মাতে পারবেন টমেটো, লেটুস, ফুলকপি, বাঁধাকপি, শসা, ক্ষিরা, ক্যাপসিকাম, স্ট্রবেরি, এ্যানথরিয়াম, গাঁদা, গোলাপ, অর্কিড, চন্দ্রমলিস্নকা আরো অনেক ফসল। মাটিবিহীন পানিতে ফসল উৎপাদনের এই কৌশলকে বলে হাইড্রোপনিক যা একটি অত্যাধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি। এ পদ্ধতিতে সারাবছরই সবজি ও ফল উৎপাদন করা সম্ভব। এই চাষাবাদে কোনো কীটনাশক বা আগাছানাশক কিংবা অতিরিক্ত সার দেয়ার প্রয়োজন হবে না। তাই অনায়াসে গড়ে তুলতে পারবেন অর্গানিক ফসলের সম্ভার। সমপ্রতি বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) -এর বিজ্ঞানীরা এই প্রযুক্তিতে চাষাবাদ শুরম্ন করেছেন।
বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রের ঊধর্্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এ.কে. এম. সেলিক রেজা মলিস্নক ১৯৯৭ সালে জাপানে হাইড্রোপনিক প্রযুক্তির উপর প্রশিক্ষণ নিয়ে এই প্রযুক্তি প্রথম বাংলাদেশে নিয়ে আসেন ২০০৬ সালে। ২০০৭ সালে তিনি বাংলাদেশের জলবায়ুর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হাইড্রোপনিক প্রযুক্তির গবেষণা শুরম্ন করেন টমেটো, ক্যাপসিকাম, লেটুস ও স্ট্রবেরি এই ৪টি ফসল নিয়ে। এ গবেষণায় সাফল্যের পর ২০০৮ সালে এর সাথে ক্ষিরা, শসা, গাঁদা ফুল ও বেগুন এবং ২০০৯ সালে বামন সিম, ফুলকপি, বাঁধাকপি, ব্রকোলি, চন্দ্রমলিস্নকা যোগ করেন। বিজ্ঞানী মলিস্নক এ গবেষণায় ব্যাপকভাবে সাফল্য পান।
তিনি জানান, লাভজনক ফসলের ক্ষেত্রে এ হাইড্রোপনিক পদ্ধতিতে নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে মাটির পরিবর্তে পানিতে গাছের প্রয়োজনীয় খাবার সরবরাহ করে ফসল উৎপাদন করা হয়। জনবহুল দেশে যেখানে স্বাভাবিক চাষের জমি কম কিংবা নেই সেখানে ঘরের ছাদে বা আঙিনায়, পলি টানেল, নেট হাউজে হাইড্রোপনিক পদ্ধতিতে সবজি ও ফল উৎপাদন সম্ভব। উন্নত বিশ্বের যেমন : ইউরোপ, আমেরিকা, জাপান, তাইওয়ান, চীন, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যের দেশসমূহে বাণিজ্যিকভাবে হাইড্রোপনিক পদ্ধতির মাধ্যমে সবজি ও ফল উৎপাদন করা হচ্ছে। এই পদ্ধতিতে সারাবছরই সবজি ও ফল উৎপাদন করা সম্ভব এবং উৎপাদিত সবজি ও ফলে কোনো কীটনাশক ব্যবহার করা লাগে না বিধায় এ সবজি ও ফল নিরাপদ এবং অধিক বাজারমূল্য পাওয়া যায়।
সাধারণত দু'ভাবে হাইড্রোপনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ করা যায়। সঞ্চালন পদ্ধতি এবং সঞ্চালনবিহীন পদ্ধতি।
সঞ্চালন পদ্ধতিতে গাছের অত্যাবশকীয় খাদ্য উপাদানসমূহ যথাযথ মাত্রায় মিশ্রিত করে একটি ট্যাংকিতে নেয়া হয় এবং পাম্পের সাহায্যে পাইপের মাধ্যমে ট্রেতে পুষ্টি দ্রবণ সঞ্চালন করে ফসল উৎপাদন করা হয়। প্রতিদিন অনত্মতপক্ষে ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা পাম্পের সাহায্যে এই সঞ্চালন প্রক্রিয়া চালু রাখা দরকার। এই পদ্ধতিতে প্রাথমিকভাবে প্রথম বছর ট্রে, পামপ এবং পাইপের আনুসাঙ্গিক খরচ একটু বেশি হলেও পরবর্তী বছর থেকে শুধুমাত্র রাসায়নিক খাদ্য উপাদানের খরচ প্রয়োজন হয়। ফলে দ্বিতীয় বছর থেকে খরচ অনেকাংশে কমে যায়। এ পদ্ধতিতে গ্যালভানাইজিং লোহার ট্রের উপর কর্কশিটের মাঝে গাছের প্রয়োজনীয় দূরত্ব অনুসারে যেমন_ লেটুস ২০ দ্ধ ২০ সে. মি. টমেটো ৫০ দ্ধ ৪০ সে. মি. এবং স্ট্রবেরি ৩০ দ্ধ ৩০ সে. মি. দূরত্বে গর্ত করতে হয়। উপযুক্ত বয়সের চারা স্পঞ্জসহ ওই গর্তে স্থাপন করতে হয়। অপরদিকে, সঞ্চালনবিহীন পদ্ধতিতে একটি ট্রেতে গাছের প্রয়োজনীয় খাদ্য উপাদানসমূহ পরিমিত মাত্রায় সরবরাহ করে সরাসরি ফসল চাষ করা হয়।
এই পদ্ধতিতে খাদ্য উপাদান সরবরাহের জন্য কোনো পাম্প বা পানি সঞ্চালনের প্রয়োজন হয় না। এক্ষেত্রে খাদ্য উপাদান মিশ্রিত দ্রবণ ও তার উপর স্থাপিত কর্কশিটের মাঝে ২ থেকে ৩ ইঞ্চি পরিমাণ জায়গা ফাঁকা রাখতে হবে। কর্কশিটের উপরে ৪ থেকে ৫টি ছোট ছোট ছিদ্র করে দিতে হবে যাতে বাতাস চলাচল করতে পারে এবং গাছ তার প্রয়োজনীয় অক্সিজেন কর্কশিটের ফাঁকা জায়গা থেকে সংগ্রহ করতে পারে। ফসলের প্রকার ভেদে সাধারণত ২ থেকে ৩ বার এই খাদ্য উপাদান ট্রেতে যোগ করতে হয়। আমাদের দেশের সাধারণ মানুষ সহজেই এই পদ্ধতি অনুসরণ করে পস্নাস্টিক বালতি, পানির বোতল, মাটির পাতিল, ইত্যাদি ব্যবহার করে বাড়ির ছাদ, বারান্দা এবং খোলা জায়গায় সঞ্চালনবিহীন পদ্ধতিতে সবজি উৎপাদন করতে পারে। এতে খরচ তুলনামূলকভাবে অনেক কম হবে।
যে সকল ফসল হাইড্রোপনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ করা যাবে তা হল_ পাতা জাতীয় সবজির মধ্যে লেটুস, গীমাকলমি, বিলাতি ধনিয়া, বাঁধাকপি। ফল জাতীয় সবজির মধ্যে টমেটো, বেগুন, ক্যাপসিকাম, ফুলকপি, শসা, ক্ষিরা, মেলন, স্কোয়াস, ফল স্ট্রবেরি, ফুল এ্যানথরিয়াম, গাঁদা, গোলাপ, অর্কিড, চন্দ্রমলিস্নকা, জারবেরা ইত্যাদি। হাইড্রোপনিক পদ্ধতির চারা উৎপাদন প্রসঙ্গে বিজ্ঞানী মলিস্নক বলেন, হাইড্রোপনিকস পদ্ধতিতে চারা উৎপাদনের জন্য স্পঞ্জ বস্নক ব্যবহার করা হয়। সাধারণত স্পঞ্জকে ৩০ সে. দ্ধ ৩০ সে. সাইজে কেটে নিতে হয়। এই স্পঞ্জকে ২.৫ সে মি. দৈঘর্্য এবং ২.৫ সে. মি. প্রস্থ বর্গাকারে, ডট ডট করে কেটে নিতে হয় এবং এর মাঝে এক সে. মি. করে কেটে প্রতিটি বর্গাকারে স্পঞ্জের মধ্যে একটি করে বীজ বপন করতে হয়। বীজ বপনের পূর্বে বীজকে ১০% ক্যালসিয়াম অথবা সোডিয়াম হাইপোক্লোরাইড দিয়ে বীজ শোধন করে নিতে হবে। বীজ বপনের পর স্পঞ্জকে একটি ছোট ট্রেতে রাখতে হবে। এই ট্রের মধ্যে ৫ থেকে ৮ সে. মি. পানি রাখতে হবে যাতে স্পঞ্জটি পানিতে সহজে ভাসতে পারে। চারা গজানোর ২ থেকে ৩ দিন পর প্রাথমিক অবস্থায় ৫ থেকে ১০ মি. লি. খাদ্য উপাদানে সম্বলিত দ্রবণ এক বার এবং চারা গজানোর ১০ থেকে ১২ দিন পর থেকে চারা রোপণের পূর্ব পর্যনত্ম প্রতিদিন ১০ থেকে ২০ মি. লি. দ্রবণ দিতে হবে। এ পদ্ধতিতে চারা রোপণের পর দ্রবণের পিএইচ মাত্রা ৫.৮ থেকে ৬.৫ -এর মধ্যে এবং ইসি মাত্রা ১.৫ থেকে ১.৯ -এর মধ্যে রাখা দরকার। গাছের বৃদ্ধির পর্যায়ে ওপর থেকে সুতা বা শক্ত রশি ঝুলিয়ে গাছ সোজা ও দাঁড় করিয়ে রাখতে হয় এবং পরিচর্যা সাধারণ গাছের মতই করতে হবে।
হাইড্রোপনিক পদ্ধতির জন্য রাসায়নিক দ্রব্যের পরিমাণ ও তৈরির প্রক্রিয়া একটু ভিন্ন রকম। প্রতি এক হাজার লিটার পানির জন্য পটাশিয়াম হাইড্রোজেন ফসফেট ২৭০ গ্রাম, পটাসিয়াম নাইট্রেট ৫৮০ গ্রাম, ক্যালসিয়াম নাইট্রেট এক হাজার গ্রাম, ম্যাগানেসিয়াম সালফেট ৫১০ গ্রাম, ইডিটিএ আয়রন ৮০ গ্রাম, ম্যাঙ্গানিজ সালফেট ৬.১০ গ্রাম, বরিক এসিড ১.৮০ গ্রাম, কপার সালফেট ০.৪০ গ্রাম, অ্যামনিয়াম মলিবটেড ০.৩৮ গ্রাম, জিংক সালফেট ০.৪৪ গ্রাম হারে পানিতে মিশিয়ে খাদ্য দ্রবণ তৈরি করতে হবে।
জলীয় খাদ্য দ্রবণ তৈরির সময় বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। প্রথমে ঝঃড়পশ ঝড়ষঁঃরড়হ তৈরি করতে হবে। এই ঝঃড়পশ তৈরি করার সময় ক্যালসিয়াম নাইট্রেট এবং ঊউঞঅ ওৎড়হ কে পরিমাপ করে ১০ লিটার পানিতে দ্রবীভূত করে দ্রবণকে ঝঃড়পশ ঝড়ষঁঃরড়হ "অ" নামে নামকরণ করতে হবে। অবশিষ্ট রাসায়নিক দ্রব্যগুলোকে একসাথে ১০ লিটার পাানিতে দ্রবীভূত করে ঝঃড়পশ ঝড়ষঁঃরড়হ "ইচ্ নামে নামকরণ করতে হবে। এক হাজার লিটার জলীয় দ্রবণ তৈরির ক্ষেত্রে প্রথমে এক হাজার লিটার পানি ট্যাংকে নিতে হবে। তারপর ঝঃড়পশ ঝড়ষঁঃরড়হ অ থেকে ১০ লিটার দ্রবণ ট্যাংকের পানিতে ঢালতে হবে এবং একটি অ-ধাতব দ-ের সাহায্যে নাড়াচাড়া করে ভালভাবে মেশাতে হবে। এরপর ঝঃড়পশ ঝড়ষঁঃরড়হ "ই" থেকে আগের মত ১০ লিটার দ্রবণ ট্যাংকে নিতে হবে এবং আগের মতই অ-ধাতব দ-ের সাহয্যে পানিতে ঝঃড়পশ ঝড়ষঁঃরড়হ গুলি সমানভাবে মেশাতে হবে।
হাইড্রোপনিক পদ্ধতির চাষাবাদের সুবিধা নিয়ে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক ড. মো. আব্দুল হক জানান, এ পদ্ধতিতে আবাদি জমির প্রয়োজন হয় না বিধায় সারাবছর কিংবা অমৌসুমেও সবজি, ফল, ফুল চাষাবাদ করা যায়। পদ্ধতিটি মাটিবিহীন চাষ পদ্ধতি হওয়ায় মাটিবাহিত রোগ ও কৃমিজনিত রোগ হয় না। কীটপতঙ্গের আক্রমণ কম হওয়ার কারণে এই পদ্ধতিতে কীটনাশকমুক্ত সবজি উৎপাদন করা সম্ভব। এই পদ্ধতিতে ছোট এবং বড় পরিসরে স্বাস্থ্যসন্মত এবং পরিচ্ছন্নভাবে ফসল উৎপাদন করা যায়। এটি হোম-ফার্মিং এর জন্য একটি আদর্শ প্রযুক্তি বিধায় অধিক লাভজনক, অর্থকরী ও মানসম্পন্ন ফসল উৎপাদন করা সম্ভব।
বিভিন্ন কারণে দেশে মাথাপিছু চাষযোগ্য জমির পরিমাণ সংকুচিত হচ্ছে। বর্ধিত জনসংখ্যার অব্যাহত খাদ্য চাহিদা পূরণের লৰ্যে শুধু আবাদি জমির উপর নির্ভর করা যাবে না। দেশের এমনি অবস্থায় প্রয়োজন অব্যবহৃত খালি জায়গা ও পতিত জায়গা শস্য চাষের আওতায় আনা। হাইড্রোপনিকস চাষ পদ্ধতি এ ৰেত্রে সঠিকভাবে আরোপযোগ্য একটি কৌশল। এ পদ্ধতি বাড়ির ছাদে, আঙিনায়, বারান্দায় কিংবা চাষের অযোগ্য পতিত জমিতে সহজেই চাষাবাদের আওতায় আনা সম্ভব। এতে করে একদিকে যেমন পতিত জমি বা অব্যবহৃত জায়গার সফল ব্যবহার হবে, অন্যদিকে দেশ অর্থনৈতিকভাবে অনেক লাভবান হবে।
লেখক : কৃষিবিদ, বৈজ্ঞানিক কর্মকতর্াফল গবেষণা কেন্দ্র, বিনোদপুর, রাজশাহী

Sunday, July 29, 2012


মনিরামপুরে শসা’র বাম্পার ফলন

লেখক: মনিরামপুর (যশোর) সংবাদদাতা  |  রবিবার, ২৯ জুলাই ২০১২, ১৪ শ্রাবণ ১৪১৯
Details
লাভ বেশি হওয়ায় শসা চাষের দিকে ঝুঁকছে মনিরামপুরের চাষীরা। উপজেলার শ্যামকুড় গ্রামের মাঠের পর মাঠ শসা ক্ষেতে পরিণত হয়েছে। চাষীদের পরিচর্যায় এবার বাম্পার ফলন হয়েছে।
শতকরা ৯০ ভাগ মানুষ শসা চাষের সাথে জড়িত। এ এলাকার জলবায়ু, মাটি, পানি এ জাতীয় সবজি চাষের জন্য বেশ উপযোগী। এখানে দেশি ও হাইব্রিড জাতের দু’প্রকার শসা চাষ হয়ে থাকে। চাষীরা জানান, হাইব্রিড জাতের শসাটি বীজ বপনের পর ৩০-৩৫ দিনের মধ্যে গাছে ফল আসে। বছরের জ্যৈষ্ঠ মাস থেকে এর আবাদ শুরু হয়। হাইব্রিড জাতের শসা ভাদ্র মাস পর্যন্ত এবং দেশি জাতের শসা আশ্বিন মাসের শেষ পর্যন্ত ফল দেয়। অপেক্ষাকৃত দেশি জাতের ধরন কম কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে ফল তোলা যায়। অপরদিকে হাইব্রিড জাতের শসা ফলন বেশি কিন্তু মাত্র ২ থেকে ৩ মাস পর্যন্ত ফল দেয়। তবে এ এলাকায় হাইব্রিড জাতের শসার বেশি চাষ হয়ে থাকে। দামের দিক দিয়ে দেশিটি ও হাইব্রীড একই হলেও ওজনে দেশী জাতের শসা কম লাগে। প্রতি মণ শসা সাড়ে ৫’শ থেকে ৭’শ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।
উপজেলার শ্যামকুড় গ্রামের ডাঙ্গির মাঠটি শসার মাঠ হিসেবে পরিচিত। এ মাঠের একটুকুও জমি খালি নেই। শুধু শসার ক্ষেত। সরেজমিন প্রান্তিক চাষী আলমগীর হোসেন (৩০) জানান, চলতি মৌসুমে নিজের এবং অন্যের জমি লীজ নিয়ে গত জ্যৈষ্ঠ মাসে ইউনাইটেড সীডস’র হাইব্রিড জাতের শসার আবাদ করেছি। জমি লীজ ছাড়া বিঘা প্রতি মোট খরচ হবে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা। এ পর্যন্ত বিঘা প্রতি ৬০ হাজার টাকার শসা বিক্রি হয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত তা লাখ টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করছি।
শামকুড় গ্রামের আশেপাশের পানিছত্র, ঘিবা, লাউড়িসহ কয়েকটি গ্রামেও শসা চাষ শুরু হয়েছে। শ্যামকুড় গ্রামের কামরুজ্জামান, নাজমুল ইসলাম, গোলাম মোস্তফা, রবিউল ইসলাম, সিদ্দিকুর রহমান, নওয়াব আলীসহ শসা চাষীরা জানান, ফসল তুলে তা স্থানীয় মনিরামপুর, কেশবপুর, নওয়াপাড়াসহ যশোরের বিভিন্ন পাইকারী বাজারে বিক্রি করে থাকেন। আবার অনেক চাষী ক্ষেত থেকেই পাইকারী ব্যাপারীর কাছে বিক্রি করে থাকেন। মূলত এখানকার উত্পাদিত শসা খুলনা, ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যাচ্ছে।



আবদুল্লাহ আল মারুফ, পাংশা
চলতি মৌসুমে রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলায় পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম হয়েছে। তবে বাজার দর নিয়ে উৎকণ্ঠায় রয়েছেন পাট চাষিরা। এবারের মৌসুমে পাট মন্ত্রণালয় থেকে কৃষকদের সার, বীজ, কীটনাশকসহ নানা সহযোগিতা প্রদান করলেও বাজার দর নিয়ে উৎকণ্ঠা কাটছে না পাট চাষিদের। সম্প্রতি উপজেলার প্রায় সব এলাকায়ই পাট কাটা শুরু হয়েছে।
কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে পাংশা উপজেলায় ব্যাপক হারে পাট চাষ হয়েছে। এবারের লক্ষ্যমাত্রা ছিল প্রায় ৮ হাজার হেক্টর। তবে এ লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে পাট চাষ হয়েছে ১০ হাজার ২২০ হেক্টর। লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেলেও গত বছরের তুলনায় চলতি বছর পাট চাষ কিছুটা কম হয়েছে বলে কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে। গত বছর এ লক্ষ্যমাত্রা ছিল প্রায় ১১ হাজার হেক্টর। 
উপজেলা পাট উন্নয়ন কর্মর্কর্তা আজিম-উল-ইসলাম বলেন, পাংশা উপজেলায় চলতি মৌসুমে সোনালি অাঁশ পাটের উৎপাদন বাড়াতে পাট মন্ত্রণালয় কর্তৃক গৃহীত সার, বীজ, কীটনাশকসহ নানা সহযোগিতা প্রদান চাষিদের অনেকটাই উদ্বুদ্ধ করেছে। উফশী পাট ও পাট বীজ উৎপাদন প্রকল্পের আওতায় প্রাথমিকভাবে পাংশা উপজেলার হাবাসপুর, বাহাদুরপুর, মৌরাট, শরিষা ও বাবুপাড়াসহ ৫টি ইউনিয়নের ২০০ করে ১ হাজার পাট চাষিকে বিনামূল্যে সার ও কীটনাশক প্রদান করা হয়েছে। এদের প্রত্যেককে ১২ কেজি ইউরিয়া, ৫ কেজি পটাশ, ৫ কেজি টিএসপি এবং বোতল করে কীটনাশক প্রদান করা হয়। এ ছাড়া মৌসুমের শুরুতে এসব চাষিকে মাথাপিছু ২.৩ কেজি পাট বীজ প্রদান করা হয়েছিল।
পাট চাষি জয়নাল বিশ্বাস, আনছার আলী, মনছুর শেখ, শহিদ শেখ জানান, সম্প্রতি কিছু পাট কেটে বাজারে বিক্রি করেছেন তারা। বর্তমানে পাটের বাজার দর ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকা। তবে তারা আশঙ্কা করছেন বাজারে পাট আমদানি বেড়ে গেলে দাম কমে যেতে পারে। এতে কৃষক চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। পাটের বর্তমান বাজার ধরে রাখা গেলে হয়তো গত বছর পাট চাষ করে কৃষক যে লোকসানের সম্মুখীন হয়েছিলেন এবার পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে। তারা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কাছে জোর দাবি জানান, সিন্ডিকেট তৈরি করে কোনো অপশক্তি যাতে পাটের বর্তমান বাজারে ধস নামাতে না পারে তার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সেলিম আহম্মেদ জানান, গত বছর পাটের বাজার দর কিছুটা কম হলেও পাটকাঠির ভালো দাম পাওয়ায় কৃষক এবারো পাট চাষে উদ্বুদ্ধ হয়েছে। তবে খাল, বিল, ডোবা, নালাসহ ছোট ছোট পুকুর ভরাট হয়ে যাওয়া ও নদীর গভীরতা কমে যাওয়ায় চাষিরা পাট পচানোর জায়গা না পাওয়ায় পাট চাষে নিরুৎসাহিত হচ্ছেন। এ ছাড়া বেশির ভাগ জলাশয় মাছ চাষের আওতায় চলে আসায় দিনের পর দিন পাট চাষে নিরুৎসাহিত হচ্ছে কৃষকন। পাটের বাজার দর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমানে পাটের আশানুরূপ দাম পাচ্ছেন কৃষকরা। আশা করছি চলতি বছর তারা পাট এবং পাটকাঠি বিক্রি করে ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারবেন।
এদিকে চাটমোহর প্রতিনিধি জাাঙ্গীর আলম জানান, পাটকে সোনালি অাঁশ বলা হলেও পাটের সোনালি দিন নেই বললেই চলে। এমনটাই মনে করছেন পাবনার চাটমোহরের পাট চাষিরা। তবুও ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে এবং ন্যায্যমূল্য পাওয়ার আশায় পাটের চাষাবাদ করেছেন। কয়েক সপ্তাহ হল চাটমোহর উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারে নতুন পাট উঠতে শুরু করেছে। কিন্তু চাষিদের মুখে হাসি নেই। কারণ ন্যায্যমূল্য পাওয়া নিয়ে সংশয় রয়েছে। চলতি বছর উপজেলার ১১টি ইউনিয়নে পাটের বাম্পার ফলনের আশা করছেন কৃষি বিভাগ ও কৃষকরা। তবে বন্যার কারণে নিম্নাঞ্চলের ১ হাজার হেক্টর জমির পাট তলিয়ে গেছে। চাটমোহর উপজেলার নতুনবাজার, রেলবাজার, মূলগ্রাম, মথুরাপুর, মির্জাপুর, পার্শ্বাডাঙ্গা, হরিপুরহাটসহ বিভিন্ন হাটে গত এক সপ্তাহ ধরে নতুন পাট উঠতে শুরু করেছে।
চাটমোহরের বিভিন্ন হাট ঘুরে দেখা গেছে, ভালোমানের পাট মণ প্রতি ২ হাজার টাকা ও নিম্নমানের পাট ১ হাজার ৭০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে ন্যায্যমূল্য পাওয়া নিয়ে চাষিরা সংশয় প্রকাশ করছেন। বর্তমান বাজারে পাটের যে দাম রয়েছে তা যদি মৌসুমের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত থাকে তা হলে চাষিদের কোনো কষ্ট থাকবে না। কিন্তু গত বছরের মতো এ বছরো মাঝ পথে এসে পাটের বাজারে দরপতন ঘটতে পারে বলে চাষিদের মধ্যে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
চাটমোহর অমৃতকু-া (রেলবাজার) হাটে পাট বিক্রি করতে আসা পাট চাষি মাহাতাব ম-ল ও সেকেন্দার মোল্লা বলেন, এ বছরের প্রথমেই পাটের যে দাম পাচ্ছি তা নিয়ে আমরা খুশি। তবে গত বছরের মতো পাটের বাজার দরপতন হওয়া নিয়েও আমরা চিন্তিত। বিশিষ্ট ঠিকাদার ও পাট ব্যবসায়ী আলহাজ মো. আবদুল কুদ্দুস সরকার বলেন, ??প্রথম দিকেই পাটের মিলগুলো থেকে যে দাম পাচ্ছি সে দাম দিয়েই পাট কেনায় চাষিরা সন্তুষ্ট। তবে পরে মিলগুলো থেকে পাটের মূল্য কমিয়ে দিলে আমাদের কিছু করার থাকে না।
চাটমোহর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. রওশন আলম জানান, এ বছর লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে দ্বিগুণ পাট চাষাবাদ হয়েছে। ফলনও হয়েছে বাম্পার। তিনি আরো বলেন, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার পাটের দামও বেশি। পাটজাত পণ্যের কারখানার সংখ্যা এবং রফতানি বৃদ্ধি পাওয়ায় কৃষকরা এখন অন্য ফসলের তুলনায় পাট চাষে বেশি উৎসাহিত হচ্ছেন।



এস এস সাগর, চিতলমারী
বাগেরহাটের চিতলমারীর চাষিরা সবজি চাষে অভাবনীয় সাফল্য দেখিয়েছেন। এ বছর উপজেলায় বিভিন্ন প্রকার তরকারির বাম্পার ফলন হয়েছে। ঢাকা, খুলনা, ফরিদপুরসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের চাহিদা মেটায় এ অঞ্চলের সবজি চাষিরা। কিন্তু কৃষকেরা নায্যমূল্য না পাওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়ছে। কৃষি সংশিষ্ট অভিজ্ঞমহল জানিয়েছেন বর্তমানে চাষিরা ফসলের উৎপাদন খরচই ঘরে তুলতে পারছে না। সিডর ও আইলা পরবর্তীতে এ অঞ্চলের চাষিরা দেনায় দেনায় জর্জারিত। তাই অবিলম্বে সরকারি পদক্ষেপ বা সঠিক ভাবে বাজার মনিটরিং না করলে কৃষকরা সবজি চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে। 
কৃষি সমপ্রসারণ অধিদফতর জানায়, চলতি মৌসুমে চিতলমারীতে ১৪৫ হেক্টর জমিতে করলা, ৮৫ হেক্টরে শসা, ঢেঁড়শ ৫ হেক্টের, চাল কুমড়া ১৫ হেক্টর, মিষ্টি কুমড়া ১০ হেক্টর, বেগুন ২৫ হেক্টর, বরবটি ৫ হেক্টর, লাউ ৫ হেক্টর এবং ৫ হেক্টর জমিতে পুঁইশাকের চাষ হয়েছে। তবে বেসরকারি পরিসংখানে প্রায় ১ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে প্রায় সাড়ে ৭ হাজার কৃষক সবজি চাষ করেছে। উপজেলার খাশেরহাট, শ্রীরামপুর, বাখেরগঞ্জ, কুরমনি, সুরশাইল, শৈলদাহ, কালিগঞ্জ, হিজলা নালুয়া, বড়বাড়িয়া ও ডুমুরিয়াসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিটি ঘেরের ওপর তরকারি যেন উপচে পড়ছে। প্রতিদিনই এসব প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে ট্রাক ভরে তরকারি কিনতে যাচ্ছে। কিন্তু স্থানীয় ফড়িয়া ও মধ্যস্বত্বভোগীদের কারনে উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেনা কৃষকেরা। অন্যদিকে ফড়িয়াদের নির্যাতন তো রয়েছে। উপজেলা সদরের বিভিন্ন সবজির গালা (আড়ৎ) ঘুরে জানা গেছে, প্রতি মন করল্লা ২০০-৩০০ টাকা, শসা ২৫০-৩২০ টাকা, বরবটি, ৫০০ টাকা, পুঁইশাক ১২০ টাকা, বেগুন ৫০০-৭০০ টাকা, কুশি ৪০০-৫০০ টাকা এবং ঝিঙ্গা ৭০০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। তবে বেশির ভাগ ফড়িয়া ও দালালরা জোর করেই চাষিদের সবজির দাম কম দিয়েছে বলে রাশমহন ম-ল, সদাই ম-ল, অবনী বাড়ইসহ অসংখ্য চাষি অভিযোগ করেন। 
খড়মখালী গ্রামের সবজি চাষি আলমগীর তরফদার, কৃষক সুধাংশু ম-ল, দেবেন ম-ল, কুড়ালতলার অনাদী বিশ্বাস, পাটরপাড়ার মুজিবর বিশ্বাস, দড়িউমাজুড়ি গ্রামের সুধান্ন ঘরামীসহ অসংখ্য চাষি অভিন্ন সুরে জানান, স্থানীয় ফড়িয়া ও মধ্যস্বত্বভোগীদের হাত থেকে রেহাই এবং উৎপাদিত ফসলের বাজারজাতকরণের পরিধি বাড়িয়ে ন্যায্যমূল্য পেলে এ অঞ্চলের চাষিদের ভাগ্যের পরিবর্তন হতে পারে। তা নাহলে কৃষকেরা সবজি চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে।

Saturday, July 28, 2012


বিড়ম্বনা কাটছে না কুষ্টিযার পাট চাষীদের

এস কে বাশার \ ২০১১ সাল ছিল পাটের বাজারে ধ্বস। ওই বছর পর্যাপ্ত পাট চাষ এবং ভাল ফলন হলেও ভাল বাজার মূল্য না পাবার কারণে কৃষকদের লোকসান গুনতে হয়। এবছরেও বিড়ম্বিত ভাগ্য তাড়া করছে পাট চাষীদের। পাট বীজ বপন মৌসুমে বৃষ্টিপাত না হওয়ায় চাষীরা সেচ দিয়ে বীজ বপন করে। সেচ দেয়া হলেও প্রচন্ড খরতাপে পাটের বৃদ্ধি হয়নি স্বাভাবিক নিয়মে। জেলার অধিকাংশ এলাকায় পাট হয়েছে ৬-৭ ফুট লম্বা। এর ব্যাতিক্রম এলাকার সংখ্যা খুবই কম। কৃষি বিশেষজ্ঞদের অভিমত মধ্য চৈত্র থেকে মধ্য বৈশাখ পাট বীজ বপনের উপযুক্ত সময়। জৈষ্ঠ-আষাঢ় মাসের বৃষ্টিতে পাট বেড়ে ওঠে তরতর করে। কিন্তু এবছর চৈত্র থেকে আষাঢ়ের শেষভাগ গেছে বৃষ্টিহীন। আষাঢ়ের শেষ দশকে সামান্য বৃষ্টি হলেও তা পাটের বেড়ে ওঠার জন্য যথেষ্ট নয়। আর এ কারনে পাটের গাছ হয়েছে ছোট, আবার আঁশও তেমন একটা হৃষ্টপুষ্ট হয়নি। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট বিভাগের তথ্যমতে এবছর জেলায় পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ৩৩ হাজার ৪২ হেক্টর। বৃদ্ধি পেয়ে চাষ হয়েছে ৩৫ হাজার ৭১০ হেক্টর। হেক্টর প্রতি ১০.৯৬ বেল হিসেবে জেলায় পাট উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ৩ লাখ ৬২ হাজার ৮৭ বেল। তবে এবছর চাষ বৃদ্ধি পাওয়া স্বত্বেও উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবেনা বলে আশঙ্কা করছে কৃষি বিভাগ। কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার রায়ডাঙ্গার কৃষক আব্দুল হাই বলেন, তিনি প্রতি বছর ৩ বিঘা জমিতে পাট চাষ করে থাকেন। এবছরও চাষ করেছেন। প্রতিবছর বিঘাপ্রতি ১০ মনের উপরে ফলন হলেও এবছর ৬-৭ মনের উপরে ফলন হবে না বলে জানান। মিরপুর উপজেলার কালিতলার কৃষক মিনহাজুল ইসলাম বলেন, বৃষ্টির অপেক্ষায় থেকে শেষ পর্যমত্ম সেচ দিয়ে পাট বপন করেছেন জৈষ্ট মাসের মাঝামাঝিতে। পাটের স্বাভাবিক বৃদ্ধির লক্ষে ৪ বার সেচ দিয়েছেন। তার পরেও পাট হয়েছে ৪ হাত লম্বা। ছাল হয়নি। এবছরেও সে পাট চাষে লোকসানের শিকার বলে জানান। এদিকে পাটের ভাল ফলনের আশা করছেন কুষ্টিয়া সদর উপজেলার বড়িয়ার কৃষক আলাউদ্দিন মালিথা। তিনি বলেন, পিয়াজ তুলে জমিতে সেচ দিয়ে চৈত্র মাসে পাট বীজ বপন করেছিলেন। পরে আরো ৪ বার সেচ দিয়েছেন। খরচ বেশি হলেও তার পাট বেশ ভাল হয়েছে। আঁশও হয়েছে বেশ শক্ত। তিনি বিঘা প্রতি ৯-১০ মন হারে ফলন পাবেন বলে আশা করছেন। আলাউদ্দিন মালিথা বলেন, তাদের পূর্ব অভিজ্ঞতার সাথে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের পরামর্শ কাজে লাগাতে পেরেছেন তারা। একই এলাকার কৃষক আজমত মালিথা বলেন, এবছর পাট চাষের ব্যয় বেড়েছে গত বছরের তুলনায় এক হাজার টাকা। বীজ বপনের লক্ষ্যে জমি চাষ থেকে শুরু করে পাট বাজার জাত করা পর্যমত্ম তার বিঘা প্রতি ব্যয় হবে ১০ হাজার টাকা। স্বাভাবিক বৃষ্টি হলে সর্বাধিক ব্যয় হতো ৯ হাজার টাকা। এই ব্যায়ের মধ্যে তার নিজের পারিশ্রমিক ধরা হয়নি বলে তিনি জানান। এ অবস্থায় এবছর পাটের বাজার মূল্য প্রতি মন দেড় হাজার টাকার কম হলে এবছরও কৃষকদের লোকসান গুনতে হবে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ লুৎফর রহমান জানান, এতিমধ্যে জেলায় ১০ ভাগ পাট কর্তন সম্পন্ন হয়েছে। এবছর স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত না হওয়ায় পাটের ফলন কিছুটা কম হবে। তবে এবছর পাটের বাজার মূল্য গত বছরের তুলনায় বেশি হবে বলে তিনি আশা করছেন।

Friday, July 27, 2012



পাইকগাছা প্রতিনিধি
খুলনার পাইকগাছার নুনিয়াপাড়া গ্রামের এক কলা গাছে ২০টি মোচা ধরায় প্রতিদিন উৎসুক জনতা ভিড় জমাচ্ছে একনজর দেখার জন্য। উপজেলার সোলাদানা ইউপির সদস্য পরিতোষ ম-ল বলেন, কয়েকদিন আগে তার এক কলাগাছে অনেকগুলো কলার মোচা দেখা যায়। তখন ভালোভাবে না দেখলেও পরে অনেকে দেখে জানায় গাছে ২০টি মোচা হয়েছে এবং আরো কয়েকটি মোচা বড় হওয়ার অপেক্ষায়। এ খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে প্রতিদিন উৎসুক জনতা একনজর এতগুলি মোচা দেখার জন্য ভিড় জমাচ্ছে। এলাকার প্রবীণব্যক্তিত্ব মনোহর চন্দ্র ম-ল বলেন শুনেছি এক গাছে ১০-১২টা মোচা হয় কিন্তু ২০টিরও অধিক হতে পারে তা আমার জানা ছিল না। এই প্রথম দেখলাম।

Thursday, July 26, 2012



চাঁদপুর প্রতিনিধি
দুবছর পরও চাঁদপুরে পুকুরে ইলিশ চাষের গবেষণার সফলতা নিয়ে সন্ধিহান ইলিশ গবেষকরা। তবে গ্রোথ কম হওয়ায় বাণিজ্যিকভাবে পুকুরে ইলিশ চাষ কখনোই সম্ভব হয়ে উঠবে না বলে আশঙ্কা খোদ গবেষকদের। কিন্তু তারা আরো ১ বছর গবেষণার পর পুকুরে ইলিশ চাষ সম্ভব কতটুকু তা সাফ জানিয়ে দিবেন বলে জানিয়েছেন। এদিকে ৩টি পুকুরের মধ্যে ২টি পুকুরে কোনো ইলিশ এখন নেই বলে একটি সূত্রের দাবি। শুধুমাত্র একটি পুকুরে ইলিশ চাষ হলেও তীব্র গরমের কারণে ওই পুকুরের অর্ধশত ইলিশ ইতিমধ্যে মরে গেছে বলে মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের গবেষকরা জানিয়েছেন। মরে যাওয়া ইলিশগুলোর মধ্যে কিছু ইলিশ ফরমালিন দিয়ে ইনস্টিটিউটের ল্যাবরেটরিতে রাখা হয়েছে। এরমধ্যে অনেকগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। পুকুরে ইলিশ চাষ গবেষণার ব্যর্থতার ২২ বছর পর ২০১০ সালের ১৩ মে নতুনভাবে পুকুরে পোনা ছেড়ে ইলিশ চাষ গবেষণায় আবারো নামেন মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট নদী কেন্দ্র চাঁদপুরের বিশেষজ্ঞরা। যদিও তারা এই গবেষণা ১ জুলাই ২০১০ থেকে কাগজে কলমে শুরু দেখিয়েছেন। প্রথম পর্যায়ে নদী কেন্দ্রের ৩টি পুকুরে মেঘনা নদী থেকে ইলিশের পোনা ৬/১০ গ্রামের ৯০০ জাটকা ছাড়া হয়। এসব পুকুরের মধ্যে ৬০০ ফুট গভীরতার পুকুরে ৩০০ জাটকা, ৮০০ ফুট গভীরতার পুকুরে ৩০০ জাটকা এবং ১০ ফুট গভীরতার পুকুরে ৩০০ জাটকা ছাড়া হয়েছে বলে মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিশেজ্ঞরা জানিয়েছেন। 
তবে একটি সূত্র জানায়, নদী থেকে বার বার পোনা সংগ্রহ করে পুকুরে ছাড়লেও বাঁচানো খুব কঠিন হয়ে পড়তো। ১ম দুটি পুকুরের গভীরতার কম হওয়ায় ইলিশের জাটকা কোনোভাবেই বাঁচানো সম্ভব হয়নি বলে ওই সূত্রের দাবি। তবে ১০ ফুট গভীরতার পুকুরে ছাড়া জাটকার গ্রোথ গত ২ বছরে ৩০০ থেকে ৪০০ গ্রামের হলেও পানির গভীরতা ও স্রোত ধারা না থাকায় এসব ইলিশের গ্রোথ দিন দিন কমতে থাকে বলে বিশেষজ্ঞদের অভিমত। তবে এসব ইলিশেও ডিম আসে পরিপক্ক না হতেই। এক কথায় ১ বছরে নদীতে যে ইলিশ পরিপক্ক হয় আর সেই ইলিশ পুকুরে ৩ বছরে পরিপক্ক হয়ে উঠতে পারে না। মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট নদী কেন্দ্রের চাঁদপুরের ইলিশ সংরক্ষণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মো. জাহেদ ও ইলিশ বিশেষজ্ঞ ড. মো. আনিছুর রহমান জানান, পুকুরে ইলিশ চাষ খুবই ব্যয় বহুল হবে। কারণ ইলিশের পোনা সংগ্রহ করে তা পুকুরে এনে ছাড়া খুবই দুঃসাধ্য ব্যাপার। এটা শুধু সম্ভব নদীর তীরের পুকুরগুলোত চাষ করা তবে সেখানে স্রোত ধারা বা লবণাক্ত পানির সংস্পর্শ থাকতে হবে। এছাড়াও পুকুরে বাণিজ্যিকভাবে ইলিশ চাষ করা সম্ভব হবে না। তবে আমরা আরো এক বছর পরীক্ষার পর পুকুরে ইলিশ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হবে বলে তারা জানান।